একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের সুযোগ নিয়ে আনসার ভিডিপি’র কর্মকর্তারা মোটা অঙ্কের ঋণ নিয়ে পরিশোধে গড়ি মসি করছে। খুলনার ৩৩ আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তারা ঋণ খেলাপি হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। ব্যাংকের খাতায় তারা মেয়াদোত্তীর্ণ খেলাপি। তাদের কাছে বকেয়ার পরিমাণ ৬৪ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক ঋণ খেলাপিদের অর্থ আদায়ের মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
২০০৯ সালের ব্যাংকের খুলনা শাখা আত্মপ্রকাশ করে। এ বাহিনীর সকল স্তরের সদস্যদের স্বাবলম্বী করার জন্য প্রতিষ্ঠা হয় আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক। বাহিনীর সদস্যদের প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ক্ষুদ্র, কৃষি ও একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের আওতায় ঋণ পদ্ধতি চালু হয়। ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর গত ১৭ বছরেই ২৯১ জন ঋণ গ্রহণ করে। তারা ১০ কোটি ৫০ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছে। সিপাহি ছাড়া নায়েক, হাবিলদার ও সুবেদার পদ মর্যাদার কর্মকর্তারা এ সুযোগ নেয়। ব্যাংকের সুদের হার বছরে ১১ শতাংশ। ঋণ গ্রহণের পর মেয়াদোত্তীর্ণ খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। খেলাপি হওয়ার পরও ঋণ পরিশোধের জন্য ব্যাংক এ পর্যন্ত ১০ বার চিঠি দিয়েছে।
প্রসঙ্গগত, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আনসার বানরগাতির বিউটি হায়দার ও টুটপাড়া তালতলা হাসপাতাল এলাকার ইয়াসমিন আরা খাতুন ব্যাংক থেকে দু’জন ৫ লাখ ৮২ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। সংশ্লিষ্টরা ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে দু’টি পৃথক চেক প্রদান করে। তাদের একাউন্টে প্রয়োজনীয় টাকা না থাকায় ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে সিএমএম ও জেলা জজ আদালতে ব্যাংক দু’জনের বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনার মামলা করে। বিউটি হায়দার পলাতক রয়েছে বলে ব্যাংক কর্মকর্তা উল্লেখ করেন।
ব্যাংকের খুলনা শাখার ব্যবস্থাপক মোঃ সবুজ হাওলাদার খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য দু’মাস পর পর চিঠি দিচ্ছেন। প্রসঙ্গ নিয়ে তিনি বলেছেন খেলাপি আদায় করার জন্য বাহিনী পরিচালককে অবহিত করা হবে। তাদের বেতন বন্ধ করার জন্য নীতি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অনুরোধ করা হবে। প্রয়োজনে খেলাপিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে।
উল্লেখযোগ্য ঋণ গ্রহীতারা হচ্ছে কর্মকর্তা পদমর্যাদার মোঃ ইউনুছ হাওলাদার, মাহমুদা পারভীন, কাজল বেগম, মিসেস রহিমা খাতুন, ফজিলা খাতুন, রুমা বেগম, আলেয়া বেগম, হামিদা বেগম, শেফালি বেগম, ফিরোজ শেখ, আকলিমা বেগম, কামরুল ইসলাম, মোঃ আনসার আলি, আব্দুল বাসেদ, বজলুর রহমান, মোঃ সেলিম মিয়া, নুর মোহাম্মাদ, মোঃ রিয়াজ উদ্দিন, ওমর ফারুখ, ইয়াকুব আলী, হারুন অর রশিদ।
ব্যাংক প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে এক হাজার ৭৯৫ জন আমানতকারীর মূলধন এক কোটি ৩৪ লাখ ৩৮ হাজার টাকা।
খুলনা গেজেট/এনএম

